বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
ভাড়া বাড়লেই হিমাগার ভাঙবে—কৃষকের ধৈর্য আজ চূড়ান্তে
অনলাইন ডেস্ক
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় হিমাগারে রাখা আলুর ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ কৃষক ও জনতা তিনটি হিমাগারে (আলু স্টোর) হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন। মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে এই ঘটনাগুলো ঘটে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।
হামলার শিকার হওয়া হিমাগার তিনটি হলো—উপজেলার আপসন গ্রামের হিমাদ্রী লিমিটেড, খয়রাপুকুর বাজারের শাহ সুলতান আলু স্টোর এবং জামুরহাট বাজারের মাহমুদিয়া আলু স্টোর।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে হিমাগারগুলো আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়িয়েছে। আগে প্রতি বস্তার ভাড়া ছিল ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, আর এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে আসছিলেন কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা।
হঠাৎ করে মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত জনতা আপসনের হিমাদ্রী লিমিটেডে ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালান এবং ব্যাপক ভাঙচুর করেন। একই সময়ে জামুরহাটের মাহমুদিয়া স্টোরেও হামলা চালানো হয়, তবে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
এর আগের দিন সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে খয়রাপুকুরের শাহ সুলতান স্টোরেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। কাচের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চরআলগী গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ, কাওসার হোসেন ও মুনছুর রহমান বলেন, “স্টোরে আমাদের সংরক্ষিত বীজ আলুর ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি বস্তায় ১৬০০ টাকা পড়ছে। এখন আলু তুললে আমাদের কিছুই টিকবে না।”
আলু ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম মিস্টার, সাগর ফকিরসহ আরও কয়েকজন বলেন, এক মাস আগে আলু ওঠার কথা থাকলেও স্টোর ভাড়া বৃদ্ধির কারণে আমাদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। ভাড়া না কমলে আবারও বৃহত্তর আন্দোলনে যাবো।
শাহ সুলতান স্টোরের ম্যানেজার আবুল হাশিম বলেন, “জনতা কোনো কিছু না বুঝেই হঠাৎ হামলা করে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। ভাড়া নির্ধারণ করা অ্যাসোসিয়েশনের বিষয়।”
হিমাদ্রী লিমিটেডের ম্যানেজার আব্দুল কুদ্দুস জানান, “ইটপাটকেল নিক্ষেপে আমাদের স্টোরের কাচের জানালা-দরজা ভেঙে গেছে।”
মাহমুদিয়া স্টোরের ম্যানেজার চন্দন কুমার বলেন, “স্থানীয়দের সহায়তায় হামলাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়া গেছে।”
শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং হিমাগারগুলোর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
শিবগঞ্জের ইউএনও জিয়াউর রহমান বলেন, “হামলার পর স্টোর পরিদর্শন করেছি। এখন সব স্টোর প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে।”